নামাজ আদায় করা

 

নামাজ আদায় করা



আমাদের ধর্মে,ঈমানের পরে সর্বাধিক মূল্যবান সর্বোত্তম ইবাদত হলো নামাজ নামাজ দ্বীনের স্তম্ভ ইসলামের দ্বিতীয় প্রধান শর্ত আরবী ভাষায় নামাজকে সালাত বলা হয় সালাতের আভিধানিক অর্থ হলো দোয়া, রহমত ইস্তিগফার নামাজে এই তিনটি অর্থের প্রত্যেকটিই বিদ্যমান তাই একে সালাত বলা হয়েছে

মহান আল্লাহ্ তা'আলার সর্বাধিক প্রিয় আমল যা বারংবার আদায়ের জন্য আদেশ করা হয়েছে তা হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মুসলমানদের জন্য ঈমানের পরে আল্লাহ্ পক্ষ থেকে দেয়া সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আদেশ হলো নামাজ আদায় কর আমাদের ধর্মে নামাজকেই সর্ব প্রথম ফরজ করা হয়েছে হাশরের ময়দানেও ঈমানের পরে সর্ব প্রথম নামাজের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে যে ব্যাক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হিসাব সঠিকভাবে দিতে পারবে সে সব ধরনের কষ্ট পরীক্ষা থেকে মুক্তি পেয়ে চিরকালীন সৌভাগ্য অর্জন করবে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া জান্নাতের সৌভাগ্য অর্জন করা, যথাযথভাবে নামাজ আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত আর যথাযথভাবে নামাজ আদায়ের জন্য প্রথমে সঠিকভাবে অজু করে পবিত্র হতে হবে,তারপর কোন ধরনের আলসেমি না করে পূর্ণ মনোযোগের সাথে নামাজে দাঁড়াতে হবে নামাজের মাঝের প্রত্যেকটি হরকত সর্বোত্তম পন্থায় আদায়ের চেষ্টা করা উচিত

সবধরনের ইবাদতকে নিজের মাঝে অন্তর্ভুক্তকারী মানুষকে মহান আল্লাহ্ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য প্রদানকারী পবিত্র ইবাদত হলো নামাজ প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ যে নামাজ আদায় করল সে দ্বীনকে শক্তিশালী করল আর যে নামাজ পরিত্যাগ করল সে অবশ্যই দ্বীনকে ধ্বংস করল যে ব্যাক্তি সঠিকভাবে আন্তরিকতার সাথে নামাজ আদায় করল সে অনিষ্ট,পাপ মন্দ কাজ করা থেকে সংরক্ষিত হলো এব্যাপারে সূরা আনকাবুত্ এর পঁয়তাল্লিশতম আয়াতে বলা হয়েছে যেনিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে মন্দ,কুৎসিত নিষিদ্ধ কাজ করা থেকে বিরত রাখে” '

যে নামাজ মানুষকে মন্দ পাপ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না তা যথাযথভাবে আদায়কৃত নামাজ হতে পারে না বাহ্যিক দৃষ্টিতে তা নামাজ হলেও যথার্থ নয় এতদসত্ত্বেও যথার্থ নামাজ আদায় করার পর্যায়ে উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত এই বাহ্যিক নামাজ পরিত্যাগ করা উচিত নয় কেননা ইসলামের আলেম দের মতে, কোন কিছু পুরোপুরি অর্জন করতে না পারলেও যতটুকু সম্ভব অর্জন করা উচিত,সম্পুর্নটুকুই হাতছাড়া করা উচিত নয় সীমাহীন দয়া অনুগ্রহের মালিক মহান আল্লাহ্ তা'আলা হয়তবা বাহ্যিক নামাজকেও হাক্বীকত হিসেবে কবুল করে নিতে পারেন এজন্য কাউকেই লোক দেখানো নামাজ পড়ার চেয়ে না পড়াই ভাল বলা উচিত নয় বরং এভাবে বলা উচিত যে,লোক দেখানো নামাজ না পড়ে সত্যিকার অর্থেই আন্তরিকতার সাথে নামাজ আদায় কর সর্বদাই ভুলত্রুটি সংশোধনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা উচিত তা না করে সমূলে নষ্ট করা উচিত নয় এই সূক্ষ তাৎপর্যটি সকলের বুঝা উচিত

নামাজসমূহ জামাতের সাথে আদায় করা উচিত কেননা জামাতের সাথে আদায় করা নামাজে, একাকী আদায় করা নামাজের তুলনায় অনেক বেশি সওয়াব অর্জিত হয় নামাজের সময়ে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গের বিনয়ী হওয়া উচিত আর অন্তরের আল্লাহ্ তা'আলার ভয় ভালবাসায় পূর্ণ থাকা উচিত মানুষকে দুনিয়া আখিরাতের বিপদআপদ বালা-মুসিবত থেকে একমাত্র নামাজই পরিত্রান করতে পারে মহান আল্লাহ্ তা'আলা সূরা মুমিনুন এর শুরুর দিকে বলেছেন যে, ‘মুমিনরা অবশ্যই মুক্তি পাবে তারা খুশু সহকারে নামাজ আদায় করে

বিপদের আশঙ্কা রয়েছে এমন স্থানে, এমন সময়ে কিংবা এমন অবস্থায় আদায়কৃত ইবাদতের মূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায় যখন দুশমন আক্রমন করে তখন তা মোকাবিলায় সৈনিকের সামান্য কাজও মূল্যবান হয়ে যায় একারণেই যৌবনকালে আদায়কৃত ইবাদতের মূল্য অনেক বেশি হয় কেননা এই সময়ই মানুষ সচেয়ে বেশি নাফসের মন্দ খায়েশের ইবাদতের প্রতি অনীহার শিকার হয়

এমন তিনটি কারণ রয়েছে যা যৌবনকালে মানুষের উপর ভর করে তাকে ইবাদত করা থেকে বিরত রাখে এগুলো হলো,শয়তান,নাফস মন্দ সঙ্গী সমস্ত মন্দ পাপকাজের মূলে অসৎসঙ্গ রয়েছে যৌবনকালে কেউ যদি উক্ত মাধ্যমগুলি থেকে আসা মন্দ খায়েশের আনুগত্য না করে যথাযথভাবে নামাজ আদায় করে এবং অন্যান্য ফরজ ইবাদতসমূহও পালন করে তবে সে আল্লাহ্র অধিক প্রিয় হয় কোন বৃদ্ধের আদায়কৃত একই ইবাদতের তুলনায় বহুগুন বেশি সওয়াব অর্জন করে অল্প ইবাদতের বিনিময়ে বহুগুন বেশি পুরষ্কার অর্জন করে

কাদের উপর নামাজ ফরজ?

প্রত্যেক আকিল বালিগ মুসলমান নরনারীর উপর নামাজ আদায় করা ফরজ কারো উপর নামাজের ফরজ হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে

.মুসলমান হওয়া .আকিলসম্পন্ন হওয়া .বালিগ হওয়া

শরীয়ত অনুযায়ী,ভাল মন্দের পার্থক্য করতে পারে না এমন ব্যাক্তি বালিগ হয়নি এমন শিশুদের উপরে নামাজ আদায়ের বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেয়া হয়নি তথাপি মা.বাবার উচিত আপন শিশুদেরকে দ্বীনী জ্ঞানের শিক্ষা দেয়া এবং পর্যায়ক্রমে তাদের মাঝে ইবাদত পালনের অভ্যাস গড়ে তোলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, ‘তোমরা সবাই পশুপালের রাখালের মত রাখাল যেমন পশুপালকে সংরক্ষণ করে ঠিক তেমনি তোমরাও তোমাদের গৃহের বাসিন্দাদের তোমাদের অধীনস্তদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও তাদেরকে ইসলাম শিক্ষা দাও তা না করলে পরকালে তোমাদেরকেই দায়ী করা হবে’' অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে যে,‘প্রত্যেক শিশুই ইসলাম ধর্মের উপর এবং তা গ্রহনের পালনের সামর্থ্য নিয়ে দুনিয়ায় আসে পরবর্তীতে তাদের মা বাবা তাদেরকে ইহুদি, খৃস্টান দ্বীনহীন বানায়'

এমতাবস্থায়, প্রত্যেক মুসলমানের প্রথম দ্বায়িত্ব হলো, নিজ সন্তানদেরকে ইসলামী ইলম,কুরআন করীমের তিলাওয়াত নামাজ আদায়ের পদ্ধতি এবং ঈমান ইসলামের যাবতীয় শর্তাবলীর শিক্ষা দেয়া আপন সন্তানেরা মুসলমান হোক, দুনিয়া আখিরাতে সুখ সাচ্ছন্দে থাকুক এটা যে মা বাবা প্রত্যাশা করে তারা যেন প্রথমে নিজেদের উপরে বর্নিত উপরোক্ত দ্বায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করে কেননা প্রবাদে আছেগাছ চাড়া থাকতে বাঁকে যখন তা বড় হয়ে যায় তখন তাকে বাঁকাতে বা নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে ভেঙ্গে যায় কিংবা আরো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়

যে শিশুকে ইসলামী ইলম সুন্দর আখলাক শিক্ষা দেয়া হয় না সে খুব সহজেই মন্দ পথের যাত্রীর দ্বারা প্ররোচিত হতে পারে এবং সে নিজ মা বাবার, দেশের জাতির জন্য ক্ষতির কারণ হয়

নামাজ আদায়কারীর অবস্থা

ঘটনা জেল থেকে মুক্তিদানকারী নামাজ

খোরাসানের প্রশাসক আবদুল্লাহ বিন তাহির খুবই ন্যায়পরায়ণ ছিলেন তার প্রহরীরা কয়েকজন চোরকে আটক করে তার দরবারে নিয়ে আসছিল এমতাবস্থায় একজন চোর পালিয়ে গেল চোর ব্যাক্তিটি পেশায় কামার ছিল তার বাড়ি ছিল হেরাথে সে পালিয়ে নিশাপুরে চলে গিয়েছিল কয়েকদিন পরে রাত্রিবেলা বাড়িতে ফিরতেছিল এবং পুনরায় আটক হলো তাকে প্রশাসকের দরবারে নিয়ে আসা হলে অন্যান্য চোরদের সাথে তাকেও জেলে বন্দী করে রাখা হলো। এই কামার তখন জেলখানাতে অজু করে নামাজ আদায় করল আর আল্লাহ্র দরবারে দুহাত তুলে এই বলে দোয়া করতে লাগল হে আমার প্রভু আমাকে এখান থেকে মুক্ত কর। ব্যাপারে আমি যে নির্দোষ তা কেবলমাত্র তুমিই জানো। একমাত্র তুমিই পারো আমাকে এই বন্দীখানা থেকে মুক্ত করতে। হে আমার প্রভু আমায় মুক্তি দাও। ওয়ালি প্রশাসক রাতে স্বপ্নে দেখল,শক্তিশালী চারজন এসে তার সিংহাসনকে উল্টিয়ে দিতে চাচ্ছে। ঠিক তখনি তার ঘুম ভেঙ্গে গেল,উঠে দুই রাকাত নামাজ পড়ে আবার ঘুমিয়ে গেল। পুনরায় চারজন এসে সিংহাসন ভাঙ্গার উপক্রম করলে তার ঘুম আবার ভেঙ্গে গেল। বুঝতে পারল,তার অধীনে কোন মাজলুম নির্যাতিত হচ্ছে।

আল্লাহ্র নিকট এই বলে প্রার্থনা করল হে আমার প্রভু কেবলমাত্র তুমিই মহান। তুমি এতটাই মহান যে, ছোট বড় সকলেই বিপদগ্রস্থ হলে শুধুমাত্র তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে। তোমার দরগাহে প্রার্থনা করলেই কেবল মণের আসা পূৰ্ণ হয়।

ওয়ালি তৎক্ষণাৎ কারারক্ষীকে ডেকে জেলে কোন মাজলুম আছে কিনা জানতে চাইল। কারারক্ষী বলল তাতো জানিনা,তবে একজন আছে নামাজ পড়ে খুব দোয়া করছে চোখের পানি ফেলছে। ওয়ালি তাকে ডেকে পাঠালেন প্রকৃত ঘটনা জানলেন। অন্যায়ভাবে শাস্তি দেয়ার কারণে তার নিকট ক্ষমা চাইলেন তাকে এক হাজার রৌপ্য মুদ্রা দান করলেন আর বললেন,কখনো কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে আমার কাছে এস। কামার বলল,তোমাকে ক্ষমা করলাম, তোমার উপহারও গ্রহণ করলাম কিন্তু সমস্যার সমাধানের জন্য তোমার দরবারে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ওয়ালি কারণ জানতে চাইলে বলল,আমার মত এক ফকিরের জন্য তোমার মত সুলতানের তখকে কয়েকবার যিনি উল্টিয়ে দেন তার মত মালিককে ছেড়ে সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য কারো নিকট প্রার্থনা করা তার উবুদিয়্যাতের পরিপন্থী। নামাজ পড়ে দোয়া করার কারণে তিনি আমাকে অনেক সমস্যা থেকে মুক্ত করেছেন অনেক আশা পূর্ণ করেছেন। এমতাবস্থায় আমি কি করে অন্যের দরবারে হাত পাতব আমার প্রভু তার সীমাহীন রহমতের ভান্ডারের দরজা খুলে রেখেছেন অসীম অনুগ্রহের প্রাচুর্য সকলের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন,কি করে আমি অন্যের কাছে যাব তার কাছে চাওয়ার পরও পায়নি এমন কেউ কি আছে,হ্যাঁ,তবে যে চাইতে জানে না সেই কেবল বঞ্চিত হয়। তার দরগাহে আদবের সাথে না গেলে তার রহমত প্রাপ্তি সম্ভব নয়।

প্রসিদ্ধ ওলী হযরত রাবিয়া বসরী একদা এক ব্যাক্তিকে দোয়া করার সময় বলতে শুনলেন যে,‘হে আমার রব তোমার রহমতের ভাণ্ডার আমার জন্য খুলে দাও এটা শুনে তিনি ব্যাক্তিকে বললেন এই যাহিল,আল্লাহ্ রহমতের দুয়ার এখন পর্যন্ত কি বন্ধ ছিল যে তা খোলার জন্য আবেদন করছ, রহমতের আসার পথ সবসময় খোলা থাকলেও সেখানে প্রবেশের পথ তথা ক্বলব সকলের নিকট খোলা অবস্থায় নেই। ক্বলবের খোলার জন্য প্রচুর দোয়া করা প্রয়োজন।

হে আমার ইলাহ সকলকে বিপদ আপদ থেকে উদ্ধারকারী একমাত্ৰ তুমি। আমাদেরকে দুনিয়া আখিরাতের সমস্ত বালা-মুসীবত থেকে রক্ষা কর। মুখাপেক্ষীদের সব ধরনের চাহিদা পূরণকারী একমাত্র তুমি। দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণময় উপকারী সবকিছু আমাদের দান কর। দুনিয়া আখিরাতে আমাদেরকে তুমি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী করিও না। আমীন,

ঘটনা ঘর পুড়ে যাওয়া

হামিদ তাওইল নামে আল্লাহ্ এক অলী ছিলেন। একদা তিনি ঘরের মধ্যে নামাজ আদায় করছিলেন এমতাবস্থায় ঘরে আগুন লেগেছিল। মহল্লার মানুষজন মিলে সেই আগুন নিভানোর পরে তার স্ত্রী তার নিকটে এসে রাগতস্বরে বলতে লাগল তোমার ঘর পুড়তেছে মানুষেরা এসে নিভাচ্ছে। এমন অবস্থায় কতকিছু করা দরকার। অথচ তুমি জায়গা থেকেও নড়ছ না। অলী বললেন, আল্লাহ্র কসম এইসব ঘটনার ব্যাপারে তো আমি কিছুই জানি না। আল্লাহ্ দোস্তরা তার মুহাব্বতে নৈকট্যে এতটাই হারিয়া যায় যে নিজেদেরকেও ভুলে যায়। তার সাথে সাক্ষাতে এতটাই বিভোর মগ্ন থাকে যে বাকী কোন কিছুর খেয়ালও থাকে না।

ঘটনা পাতিলের পানি

সম্মানিত সাহাবীদের মধ্য থেকে হযরত আবদুল্লাহ বিন শাহির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে নামাজ আদায় করতাম। নামাজের সময় তার বুক থেকে আগুনের উপরের কড়াই থেকে আসা ফুটন্ত পানির আওয়াজের মত শব্দ শুনতে পেতাম

ঘটনা পায়ে বিদ্ধ তীর

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় জামাই হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ওয়া কাররামাল্লাহু ওজহাহু এমনভাবে নামাজ আদায় করতেন যেন দুনিয়া ধ্বংস হলেও তা থেকে তার মনোযোগ বিন্দুমাত্র বিচলিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

ব্যাপারে একটি ঘটনা বর্নিত আছে একটি জিহাদে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনছুর মুবারক পায়ে একটি তীর এসে বিদ্ধ হয়েছিল যা তার অস্থি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। প্রচণ্ড ব্যাথার জন্য কোন উপায়েই তা বের করা সম্ভব হচ্ছিল না৷ ডাক্তার দেখানো হলো। ডাক্তার বলল তীর বের করতে হলে আগে আপনাকে অজ্ঞান করতে হবে। এছাড়া কোন অবস্থাতেই বের করা সম্ভব নয় কেননা এটা বের করতে হলে যে পরিমান ব্যাথা লাগবে তা সহ্য করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। ডাক্তারের কথা শুনে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন অজ্ঞান করার ওষুধের কি প্রয়োজন একটু অপেক্ষা করুন। নামাজের ওয়াক্ত হোক। আমি নামাজে দাঁড়ালে বের করতে পারবেন। কিছু সময় পরে নামাজের ওয়াক্ত হলে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজে দাঁড়ালেন। নামাজরত অবস্থায় ডাক্তার,হযরত আলী রাদিয়াল্লাহুর মুবারক পায়ের ক্ষত কেটে তীরটি বের করল এবং কাটা স্থানে ব্যান্ডেজ করে দিল। নামাজ শেষে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন তীর বের করেছ ডাক্তার বলল, হ্যাঁ। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমিতো কোনকিছুই অনুভব করলাম না আসলে ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছুই নাই। কেননা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সৌন্দর্য দেখে মিসরের রমণীগণও মোহাবিষ্ট হয়ে নিজেদেরকে সম্পূর্নরূপে ভুলে গিয়েছিল। এমনকি অবচেতন মনে কখন যে নিজেদের হাত কেটে ফেলল তাও খেয়াল করল না। মহান আল্লাহ্র নৈকট্য,তার সান্নিধ্য,তার প্রেম,তার ভালোবাসা যদি কাউকে মোহাবিষ্ট করে,নিজের ব্যাপারে বেখবর করে দেয় তাতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে মুমিন ব্যাক্তিরাও ইন্তিকালের সময় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দর্শন পেয়ে মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করা থেকে রেহাই পাবে।

ঘটনা অজ্ঞান করার ঔষধ

আল্লাহ্ জনৈক অলী হযরত আমীরই কায়সিন () এর পায়ের আঙ্গুলে একবার ক্যানসার দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসক তা কেটে ফেলার পরামর্শ দিলেন। আমীর ত্বাকদীরে যা আছে বলে চিকিৎসকের পরামর্শমত পায়ের আঙ্গুল কেটে ফেললেন। কিছুদিন পরে তিনি দেখতে পেলেন যে ক্যানসার তার পায়ের হাঁটু পর্যন্ত ছড়িয়ে পরেছে। তিনি পুনরায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। চিকিৎসক দেখে পায়ের হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দিলেন এবং বললেন, পা কাটার জন্য আগে আমীরকে অজ্ঞান করতে হবে যাতে ব্যাথা অনুভব করতে না হয়। কেননা এর ব্যাথা মানুষের সহ্যসীমার বাইরে। আমীর বলল এত কষ্ট করার কোন দরকার নাই। সুমধুর কন্ঠে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতে পারবে এমন কাউকে নিয়ে আস এবং আমার নিকটে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে বল। কুরআন শুনে যখন আমার চেহারায় পরিবর্তন দেখতে পাবে তখন আমার পা কেটে ফেলবে। কেননা অবস্থায় আমার কোন অনুভব হবে না। চিকিৎসক আমীরের কথামত করল। প্রথমে একজনকে দিয়ে সুমধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করানো হলো। কুরআন শুনতে শুনতে আমীরের চেহারার রঙ আস্তে আস্তে বদলে গেল। অবস্থায় চিকিৎসক আমীরের পায়ের হাঁটু থেকে কেটে ফেলল এবং ব্যান্ডেজ করে দিল। চিকিৎসকের কাজ শেষ হওয়ার পর কুরআন তিলাওয়াতকারী ব্যাক্তি থেমে গেল। আমীর সম্বিত ফিরে পেয়ে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করল পা কি কেটেছেন চিকিৎসক বলল হ্যাঁ কেটেছি। তার পা কাটা,তা তেল দিয়ে পুড়িয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়া ইত্যাদি কিছুই তার কুরআনের প্রতি গভীর মনোযোগকে সামান্যতম বিচ্যুত করতে পারেনি। এরপর তিনি বললেন,আমার কাটা পা আমাকে দাও। তাকে দেয়া হলো। তিনি পা তুলে ধরলেন আর বললেন, ইয়া রব তুমিই প্রকৃত দানকারী আর আমি হলাম তোমার বান্দা,সবকিছুর হুকুম তোমার পক্ষ থেকে আসে তার বাস্তবায়ন তোমার মাধ্যমেই হয়। এটা আমার পা। কিয়ামতের দিন যদি আমায় জিজ্ঞেস কর,তুমি কি কোন গুনাহের প্রতি কখনো এক পাও বাঁড়াও নাই তখন আমি বলতে পারব কখনই আমি তোমার আদেশের বাইরে একপাও বাঁড়াই নাই একটা শ্বাসও নেই নাই।

ঘটনা নামাজের জন্য ত্যাগস্বীকার

বুরসা নগরী উসমানিয়া খিলাফতের অধীনে আসার পূর্বে ওখানে বসবাসরত এক রোম ব্যাক্তি গোপনে মুসলমান হয়েছিল। তার খুব ঘনিষ্ঠ একজন তাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করল,কি করে তুমি বাপ দাদার ধর্ম ত্যাগ করতে পারলে তাকে কিছুটা হেয় প্রতিপন্ন করল। রোম ব্যাক্তির জবাবটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি তার বন্ধুকে মুসলমান হওয়ার পিছনের প্রকৃত ঘটনা এভাবে বর্ণনা করল, একদা কিছু মুসলমানকে বন্দী করা হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে একব্যাক্তি আমার ভাগে পরেছিল। একদিন দেখলাম,যেই কক্ষে তাকে আটকে রেখেছিলাম সেখানে সে বিশেষ ভঙ্গীতে উঠা বসা করছে। তার নিকটে গিয়ে কি করছে জিজ্ঞাসা করলাম। সে তার অঙ্গ ভঙ্গী শেষ করার পরে দুহাত দিয়ে মুখ মুছল এবং উত্তরে বলল যে সে নামাজ আদায় করছিল। যদি আমি তাকে তার ইবাদত করতে বাঁধা না দেই তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য সে আমাকে একটি করে স্বর্ন মুদ্রা দিবে। তখন আমি কিছুটা লোভী হয়ে গিয়েছিলাম। কিছুদিন যেতে না যেতেই আমি আরো বেশি মুদ্রা দাবী করতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত এমন হলো যে, প্রত্যেক নামাজের জন্য তার থেকে দশটি করে স্বর্নমুদ্রা দাবী করলাম। সে তাও কবুল করল। ইবাদতের জন্য তার এই ত্যাগ স্বীকার দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম। একদিন তাকে বললাম,তোমাকে আমি মুক্ত করে দিতে চাই। কথা শুনে সে খুব আনন্দিত হলো এবং দু হাত উপরে তুলে আমার জন্য এই বলে দোয়া করল হে মহান আল্লাহ্ তোমার এই বান্দাকে তুমি ঈমানের নূর দিয়ে সম্মানিত কর মুহুর্তে আমার হৃদয়ে মুসলামান হওয়ার জন্য এক তীব্র আকাঙ্খা জাগ্ৰত হলো। আকাঙ্খা এতটাই তীব্র ছিল যে,তৎক্ষণাৎ কালিমা- শাহাদাত পাঠ করে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলাম।

 

 

 

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved